দারিদ্র্য,
বর্ণবৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা
পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন দক্ষিণ
আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম পিল্লাই, যিনি নাভি পিল্লাই
নামে পরিচিত। মানবাধিকার রক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন
প্রতিষ্ঠায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন
বিশ্বজুড়ে আলোচিত।
১৯৪১
সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ
আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র তামিল
বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই।
তাঁর বাবা ছিলেন বাসচালক।
সীমিত আর্থিক সামর্থ্য ও বর্ণবৈষম্যের পরিবেশের
মধ্যেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে
যান। পরবর্তী সময়ে আইন বিষয়ে
উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আইনজীবী হিসেবে
কর্মজীবন শুরু করেন।
দক্ষিণ
আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক বন্দীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন পিল্লাই।
১৯৯৫ সালে তিনি দেশটির
হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। বিচারাঙ্গনে তাঁর
এই অগ্রযাত্রা দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
পরবর্তী
সময়ে জাতিসংঘের রুয়ান্ডা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রুয়ান্ডা গণহত্যার বিচারপ্রক্রিয়ায় যৌন সহিংসতাকে আন্তর্জাতিক
অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য।
২০০৩
সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পিল্লাই। পরে
২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল
পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ
সময়ে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন
বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ
অংশ ছিল।
রোহিঙ্গাদের
বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায়ও
তিনি বিশেষ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই
সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলবিষয়ক জাতিসংঘের
স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
দক্ষিণ
আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যমূলক সমাজে বেড়ে ওঠা থেকে
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন—নাভি পিল্লাইয়ের
জীবনসংগ্রাম মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার
ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।